অর্থনীতিদেশজুড়েসর্বশেষ

৪৭ বছরেও মেলিনি প্রতিবন্ধি ভাতা।

জন্মের ৪৭ বছর পার করে প্রতিবন্ধি থেকে না না প্রতিকুলতার সাথে সংগ্রাম করে টিকে আছে আব্দুল আজিজ। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের বতুল্লা পাড়া রাম প্রসাদ গ্রামে। বাবা মা মারা যাবার পর পৈত্রিক সুত্রে মাত্র চার শতক জমিতে বসবাস তার।

Md Kamruzzaman Swadin

শরিরের সাথে সম্পৃক্ত দুটি পা’ই বিকল কিন্তু মনের দিক থেকে কোন দিনও ভেঙ্গে পরেন নি। কালের প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট সময়ে বিয়ে করে তিন সন্তানের বাবা বনে যান। গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে প্রত্যান্ত অঞ্চলে মান্ধাতার আমলের হাত পেটেল রিক্সা চালিয়ে ভিক্ষা করে বেড়ান। বছর দুইয়েক আগে পুরো পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচার জন্য পারি জমান ঢাকায়। সেখানে দশম শ্রনীতে পড়ুয়া বড় মেয়ের লেখা-পড়া বন্ধ করে দিয়ে চাকরি করতে দেন গার্মেন্টসে। মেঝ মেয়ে ৬ষ্ট শ্রেনীতে পড়ছে, ছোট সন্তানটি এখনো স্কুল যাওয়া শুরু করেনি।

পুরো পৃথিবী যখন করোনা ভাইরাসের কারনে থমকে গেছে ঠিক তখনি ঢাকার গার্মেন্টস বন্ধ হতে শুরু করায় গার্মেন্টসে চাকরি করা মেয়েকে নিয়ে নিজেও ভিক্ষা করার সুযোগ না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। গ্রামে এসে ভিক্ষা করেই বাঁচবেন নিয়ত করেছিলেন, কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে কোথাও বের হতে পারছেন না। পরিবার নিয়ে পরে আছেন দুর্বিপাকে। খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। তার এই অবস্থা দেখে গ্রামের কতিপয় যুবক তার একটি সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। চোখে পরে ঢাকা ও স্থানীয় একটি সংগঠনের। সেসব সংগঠন সাময়িক সহযোগিতা করলেও স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে মেম্বার চেয়ারম্যানরা এগিয়ে আসেননি, জানালেন, স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম, শিক্ষক আব্দুস সোবহান, পথচারী ইসমাইল হোসেন।

আব্দুল আজিজ জানান, একাধিক বার ভোটার আইডি কার্ড মেম্বার চেয়ারম্যানদের দিয়েছি কিন্তু কাজ হয়নি। খবরটি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদের সরকারের চোখে পরলে দ্রুতই তার সাথে দেখা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যান।

এ বিষয়ে আবু সাঈদ সরকার জানান, অত্র এলাকার স্থানীয় নেতৃবর্গের অবহেলার কারনে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড পায়নি, দ্রুত তার ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধি কেন করোনা কালে সরকারের সহযোগিতা পেলেন না কেনই বা তার প্রতিবন্ধি কার্ড হলো না এ বিষয়ে ৯ নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন সদস্য জানান, আজিজ ঢাকা ছিলেন আমার সাথে যোগাযোগ ছিলো না। থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, ফেসবুকে সাহায্য চেয়ে যেসব প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রায়ই মিথ্যা, আমি করোনা কালে তাকে দশ কেজি চাউল দিয়েছি। ভাতা কার্ড তৈরি করার সময় তাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

নতুন পৃথিবীর খোঁজ পেল নাসা!                                                                                                                              পোস্ট ভাইরাল হলেই প্রোফাইল যাচাই করবে ফেসবুক                                                                                                    আ খ ম হাসানের ‌‌‘বউ নিখোঁজ’

সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, সরকার প্রতিটি এলাকায় সকল ভাতা শতভাগ করার জন্য সরকারি বিধিমোতাবেক কাজ করা যাচ্ছে। থেতরাই এলাকায় অনেক প্রতিবন্ধি ভাতা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, সেকারের স্পেশাল বরাদ্ধ জুলাই মাসে আসবে সেময় আব্দুল আজিজের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেয়া হবে।

ট্যাগ
আরো দেখুন

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close